Text size A A A
Color C C C C

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোকদিবস পালন

Download File Here

যথাযোগ্য মর্যাদায় সরকারি তিতুমীর কলেজে পালিত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস ২০২০। অনুষ্ঠানসুচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালোপতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল।

করোনা মহামারির কারণে এবারের শোক দিবসের আলোচনা সভাটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতে ১৫ আগস্টের কাল রাতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভা আয়োজক কমিটির সদস্য ও কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ গালিব হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ কার্যালয় থেকে যুক্ত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আশরাফ হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোসাঃ আবেদা সুলতানা ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক প্রফেসর মালেকা আক্তার বানু। 

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শোক দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর মোশতাক আহমেদ ভূইয়া। এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ফিনান্স ও ব্যাঙ্কিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোঃ সালাহউদ্দিন

 

সভায় সম্মানিত সকল বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক পরিষদের সকল সদস্য, ছাত্রনেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক বৃন্দ অংশগ্রহণ করেন.

 

অনলাইন শোকসভায় যুক্ত হয়ে তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ১৫ আগস্টের ঘৃণ্য অপরাধকে ধিক্কার জানানোর মধ্যেই আমাদের সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এমন অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। কেননা, সুযোগ পেলেই স্বাধীনতা বিরোধী দুষ্কৃতকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। অধ্যক্ষ বলেন, বর্বরোচিত এই হত্যাযজ্ঞের বিচার নিয়ে অনেক কালক্ষেপণ হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারকার্য প্রলম্বিত করে শহীদের আত্মাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। আশা করি অবশিষ্ট  হত্যাকারীরা দ্রুতই ধৃত হবে। আর আমাদের একাত্তর পরবর্তী প্রজন্মকে জেগে ওঠতে হবে। জাতির যেকোনো দুর্যোগের পাশে দাঁড়িয়ে রাষ্টবিরোধী তৎপরতাকে রুখে দিতে হবে। তবেই লাল সবুজের সোনার বাংলার আসল স্বাদ পাওয়া যাবে। 

 

কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মোসা. আবেদা সুলতানা বলেন, শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেকটি অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত গল্পটা সমাপ্ত করতে হবে৷ এজন্য যুগপৎভাবে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জিইয়ে রেখে কঠিন পরিস্থিতিকে উতরাতে হবে৷ কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী শিক্ষার্থীদের ইতিহাস চর্চার ওপর জোর দেন। সেইসঙ্গে বিদেশে লুকিয়ে থাকা হত্যাকারীদের যেকোনো মূল্যে দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকরের দাবি জানান। 

জাতির পিতার হত্যার পেছনের কুশীলবদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রিপন মিয়া বলেন, মাস্টারমাইন্ডের মেক্সিমাম শাস্তি দিতে হবে। তারা এখনো নাক ফুলিয়ে কথা বলতে চায়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগে দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকের কারোর জায়গা নেই৷ 

 

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ রাষ্ট্রীয় ও ইতিহাস জানার আয়োজনে বেশি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানান। ক্ষুধা ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে শোককে শক্তিতে পরিনত করে লড়াইয়ের কথা বলেন তিনি।

 

সভাপতি মহোদয়ের সমাপনী বক্ত্যব্য শেষে দোয়া পরিচালনা করেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুব-উল আলম।

 

প্রতিবেদকঃ সাব্বির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি